বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বহুপ্রতীক্ষিত বদলির ফল সহসাই প্রকাশ হচ্ছে না। বদলি প্রক্রিয়ায় দেখা দেওয়া আইনি ও নীতিগত জটিলতা নিরসনের পর ফল প্রকাশের অনুমতি দেওয়া হবে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কর্তৃক সুপারিশপ্রাপ্ত এবং প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত—এই দুই ক্যাটাগরির শিক্ষকদের বদলি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। মূলত সব এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলির সুযোগ পাবেন, নাকি কেবল এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরা এই সুবিধা পাবেন—সে বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি।

বিজ্ঞাপন · inarticle_1

সংশ্লিষ্টদের মতে, যদি কেবল এনটিআরসিএর সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বদলি করা হয়, তবে বিদ্যমান বদলি নীতিমালায় সংশোধন আনতে হবে। নীতিমালার কোন কোন ধারা বা অনুচ্ছেদ পরিবর্তন করা হবে, তা-ও এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে কবে নাগাদ বদলির ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো পূর্বাভাস দিতে পারছেন না কর্মকর্তারা।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া অনেক শিক্ষককে নিজ জেলা থেকে দূরবর্তী এলাকায় পদায়ন করা হয়েছে। যেমন—নেত্রকোনার কোনো শিক্ষককে হয়তো রাজশাহীতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে তাদের জন্য বদলি হওয়াটা বেশি জরুরি। তবে আবেদনের ক্ষেত্রে সব এমপিওভুক্ত শিক্ষককেই সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এখন কীভাবে এই জটিলতার সামঞ্জস্যপূর্ণ সমাধান করা যায়, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বদলির ফল প্রকাশ করা সম্ভব কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, পুরো বিষয়টি এখন শিক্ষামন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। মন্ত্রী দ্রুত কোনো নির্দেশনা বা সিদ্ধান্ত দিলে সে অনুযায়ী কাজ এগোবে। তবে এই মুহূর্তে ফল প্রকাশের সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বলা সম্ভব হচ্ছে না।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা একটি সুষ্ঠু ও সার্বজনীন বদলি নীতিমালার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু নীতিগত সিদ্ধান্তহীনতা এবং জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে ফল প্রকাশ না হওয়ায় মাঠপর্যায়ের হাজার হাজার শিক্ষকের মাঝে হতাশা ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।