চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা, প্রযুক্তি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চায় সরকার। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা ও শিল্পের মধ্যে একটি কার্যকর ও সুদৃঢ় সমন্বয় গড়ে তোলার ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার মানোন্নয়নে চীনের মতো উন্নয়ন সহযোগীর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজে চীন-বাংলাদেশ যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল আলোচনা ও টেকনিক্যাল প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বক্তারা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং তরুণ সমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। চীন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অবকাঠামো ও কারিগরি খাতে সহযোগিতা করে আসছে। এ সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে শিক্ষা ও শিল্পখাতের মধ্যে যোগসূত্র গড়ে তুলতে যৌথ গবেষণা, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময় কর্মসূচি এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়।
বক্তারা উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার এমন এক রূপরেখা বাস্তবায়নে কাজ করছে, যেখানে শ্রেণিকক্ষের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি, আধুনিক প্রযুক্তি এবং ভোকেশনাল/কারিগরি শিক্ষার ওপর সমান গুরুত্ব থাকবে। দেশের শিল্পকারখানাগুলোর চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে চীনা প্রযুক্তি ও কারিগরি সহায়তার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের ওপর আলোকপাত করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা ও প্রযুক্তি বিনিময়ে যে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা ও সফর সম্পন্ন হয়েছে, তা ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশ ও চীনের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে শিক্ষা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আয়োজক ও উপস্থিত অতিথিরা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।