দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় সফরে ব্যস্ত নানা কর্মসূচি
দিনব্যাপী এক গুরুত্বপূর্ণ সফরে আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) খুলনা ও বাগেরহাট সফর করছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই সফরকালে তিনি মোংলা বন্দরের মেগা উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, একটি আন্তর্জাতিক দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিতি, ঐতিহাসিক মাজার জিয়ারত এবং অঞ্চলে আয়োজিত ক্রীড়া উৎসবের শুভ উদ্বোধনসহ বহুমাত্রিক কর্মসূচিতে সরাসরি অংশ নেবেন।
মোংলা বন্দরে চীনা চুক্তি ও জেটি নির্মাণ উদ্বোধনে অংশ গ্রহণ
সফরের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, সকালে রাজধানী ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে সরাসরি বাগেরহাটের মোংলায় পৌঁছাবেন সরকারপ্রধান। সেখানে মোংলা বন্দরে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ কর্তৃপক্ষ এবং বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান ‘চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশন’ (সিআরসিসি)-এর মধ্যে এক বিশেষ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত থাকবেন। চুক্তি সম্পাদন শেষে প্রধানমন্ত্রী ‘মোংলা বন্দরের সুবিধাদি সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন’ শীর্ষক নতুন প্রকল্পের আওতায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি নতুন কনটেইনার জেটি নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক আধুনিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
মাজার জিয়ারত, খুলনায় যাত্রা ও ক্রীড়া উৎসবের উদ্বোধন
মোংলা বন্দরের মেগা প্রকল্পের কাজ শেষ করে দুপুরে প্রধানমন্ত্রী বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। মাজার দর্শন শেষে তিনি সড়কপথে খুলনার উদ্দেশে যাত্রা করবেন এবং খুলনা সার্কিট হাউজে স্বল্প সময়ের জন্য মধ্যাহ্নযাত্রাবিরতি নেবেন। পরবর্তীতে বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে উদযাপিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস—সিজন টু’-এর জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সমস্ত সরকারি আনুষ্ঠানিকতা ও কর্মসূচি সম্পন্ন করে আজই তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক উৎসাহ এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এই যৌথ আগমনকে কেন্দ্র করে খুলনা ও বাগেরহাট জেলাজুড়ে সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা গেছে বাঁধভাঙা উৎসাহ ও উচ্ছ্বাস। প্রধান অতিথির এই আগমনকে বর্ণিলভাবে স্বাগত জানাতে খুলনা নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও দেয়ালে দক্ষিণাঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার নান্দনিক চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারপ্রধানের এই সফরকে সার্বিকভাবে মসৃণ ও ঝুঁকিমুক্ত রাখতে সমগ্র অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে নিচ্ছদ্র ও অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।