বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর উপলক্ষে জাপানে বসবাসকারী বাংলাদেশী ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় সভা
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
প্রকাশিত: ০৮:১৬, ১০ অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীের জাপান সফরকে কেন্দ্র করে জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় জাপান থেকে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি সহজ করা, আমদানি নীতিতে পরিবর্তন আনা এবং অটোমোবাইল খাতের উন্নয়নে সরকারের নীতি সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ৯ অক্টোবর জাপানের টোকিওতে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা অংশ নেন। সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বারভিডার সেক্রেটারি জেনারেল রিয়াজ রহমান।
সভায় রিয়াজ রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য এবং জাপানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।
তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ জাপান থেকে ব্যবহৃত বা রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি করে থাকে। জাপানে উৎপাদিত গাড়ি আন্তর্জাতিক বাজারে সমাদৃত এবং বাংলাদেশের সড়কেও চলাচলকারী অধিকাংশ গাড়ির একটি বড় অংশ জাপান থেকে আমদানি করা হয়।
রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিতে সুযোগ বাড়ানোর দাবি
বারভিডার পক্ষ থেকে বলা হয়, সরকারের নীতিগত সহায়তা পাওয়া গেলে জাপান থেকে বিভিন্ন ধরনের গাড়ি আমদানির মাধ্যমে বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের জন্য তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে যানবাহন কেনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সংগঠনটির দাবি, বর্তমানে বাংলাদেশে পাঁচ বছরের বেশি পুরোনো গাড়ি আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ ছাড়া সাত থেকে আট বছরের রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানির সুযোগ দেওয়া হলে দেশের অটোমোবাইল খাতে উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ ঘটতে পারে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়তে পারে।
বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি নীতি নিয়েও উদ্বেগ
সভায় সম্প্রতি প্রকাশিত আমদানি নীতিতে ব্যবহৃত বা পুরোনো বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। বারভিডার মতে, এ ধরনের বিধিনিষেধের ফলে দেশের ভোক্তারা তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নত প্রযুক্তির যানবাহন ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
সংগঠনটি বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা, গাড়ির বয়স এবং কারিগরি সক্ষমতার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে নিয়ন্ত্রিত আমদানি ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়েছে।
এ ক্ষেত্রে রিকন্ডিশন্ড বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারির অবস্থা, নিরাপত্তা এবং পরিবেশগত মান যাচাইয়ের মাধ্যমে আমদানির সুযোগ পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়।
বারভিডা মনে করে, উপযুক্ত নীতিগত সহায়তা পেলে দেশের অটোমোবাইল খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণ, ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী যানবাহনের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি এবং সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বারভিডা জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং রিকন্ডিশন্ড ও বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির নীতিগত বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট মহলে তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এফএইচ/বিএ/পিআর