রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ফিশন শুরুর অনুমতি
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
প্রকাশিত: ০৭:১০, ৯ অক্টোবর ২০২৬
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা)। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রথম ইউনিটে স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন নিরাপত্তা ভালভের কারিগরি জটিলতার কারণে অনুমোদন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়েছিল। পরে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় সমস্যার সমাধান করা হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষায় নিরাপত্তা ভালভগুলো সফলভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পর পরবর্তী ধাপে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর এই ধাপকে বলা হয় ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’। এ পর্যায়ে চুল্লির ভেতরে নিয়ন্ত্রিত নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া শুরু করে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে।
তবে এই অনুমোদনের অর্থ এই নয় যে কেন্দ্রটি ইতিমধ্যে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করেছে। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আগে আরও দুটি নিয়ন্ত্রক অনুমোদন প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, সব ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হলে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে।
পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে নির্মিত হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় নির্মাণাধীন এ প্রকল্পে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।
প্রথম ইউনিটের পরবর্তী পরীক্ষাগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে পারমাণবিক শক্তি যুক্ত হওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগোবে বাংলাদেশ।
এফএইচ/বিএ/পিআর