ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

/ ভিডিও / নিউজ ফ্ল্যাশ

মন ভালো রাখতে ও মানসিক ক্লান্তি দূর করতে সহায়ক স্বল্প সময়ের ক্ষুদ্র অভ্যাস

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭:২০, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মন ভালো রাখতে ও মানসিক ক্লান্তি দূর করতে সহায়ক স্বল্প সময়ের ক্ষুদ্র অভ্যাস
ব্যস্ত ও আধুনিক জীবনযাত্রায় মানসিক চাপ, অবসাদ এবং মন খারাপের অনুভূতি যেন স্বাভাবিক অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা থেকে জানা যাচ্ছে, মানসিক সুস্থতা ধরে রাখতে কিংবা তাৎক্ষণিকভাবে মেজাজ বা মুড উন্নত করতে সবসময় বড় ধরনের কোনো রদবদল বা দীর্ঘ সময়ের সাধনার প্রয়োজন নেই। বরং অতি সংক্ষিপ্ত সময়ের কিছু সহজ কৌশল বা অভ্যাস মানুষের মানসিক অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনন্দিন রুটিনে খুব অল্প সময়—এমনকি আধা মিনিটের মতো সংক্ষিপ্ত সময়—ব্যয় করে যেসব সহজ কাজ করা হয়, সেগুলোকে 'মাইক্রোপ্র্যাকটিস' বা ক্ষুদ্র অনুশীলন বলা হয়ে থাকে। আধুনিক জীবনে বড় কোনো কাজের পরিকল্পনা অনেক সময় নতুন করে চাপ তৈরি করে। সেই জায়গায় এই ক্ষুদ্র অনুশীলনগুলো অতিরিক্ত কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই ঝটপট করা সম্ভব হয় এবং তা স্নায়ুর ওপর জমে থাকা ক্লান্তি লাঘব করতে সাহায্য করে। প্রমাণ দিন দিন বাড়ছে যে, এ ধরনের অতি সংক্ষিপ্ত ইতিবাচক চর্চা মানুষের সামগ্রিক মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে দারুণ কার্যকর। নিজের প্রতি সামান্য একটু মনোযোগ দেওয়া, কাজের মাঝে খুব স্বল্প সময়ের জন্য বিরতি নেওয়া কিংবা সচেতনভাবে কয়েকটি ধীর শ্বাস গ্রহণ করার মতো আপাতদৃষ্টিতে তুচ্ছ বিষয়গুলোও শরীরের শক্তির মাত্রা বা এনার্জি লেভেল পুনরুজ্জীবিত করতে সক্ষম। এটি শরীর ও মনের ক্লান্তি হ্রাস করে তাৎক্ষণিক সতেজতা দেয়। বর্তমান সময়ে কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু করে পারিবারিক জীবন—সবখানেই কাজের দীর্ঘ তালিকা এবং প্রত্যাশার চাপ মানুষকে দ্রুত ক্লান্ত করে তোলে। দীর্ঘস্থায়ী এই চাপ অনেক সময় কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং নানা স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। এমন বাস্তবতায় মাত্র কয়েক সেকেন্ড বা আধা মিনিটের সচেতন অনুশীলন মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ভারসাম্য রক্ষায় প্রথম ঢাল হিসেবে কাজ করতে পারে। ফলে মেজাজের আকস্মিক অবনতি ঠেকানো অনেক সহজ হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, এই ক্ষুদ্র অভ্যাসগুলোর বড় সুবিধা হলো এগুলোর ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সহজ। মানুষ যখন বড় কোনো লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করে, তখন সময়ের অভাব বা মানসিক শক্তির অভাবে তা ধরে রাখা কঠিন হয়। বিপরীতে, মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মতো অতি ক্ষুদ্র কাজ যেকোনো সময়, যেকোনো স্থানে করা সম্ভব। ফলে এটি সহজে অভ্যাসে পরিণত হয় এবং দীর্ঘ মেয়াদে মানসিক স্থিতিস্থাপকতা গড়ে তুলতে সহায়ক হয়। সামগ্রিকভাবে, শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে। মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে জটিল ও সময়সাপেক্ষ পদ্ধতির চেয়ে দৈনন্দিন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনুশীলনের প্রভাব অনেক বেশি টেকসই হতে পারে। তাই মন ভালো রাখতে ও শক্তির মাত্রা চাঙা রাখতে দিনজুড়ে অল্প সময়ের এসব 'মাইক্রোপ্র্যাকটিস' চর্চা জীবনের গুণগত মান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।

এফএইচ/বিএ/পিআর

Ad Image

সর্বোচ্চ পঠিত - নিউজ ফ্ল্যাশ

Ad Image

আপনার জন্য নির্বাচিত