সেন্টমার্টিনে পর্যটন বিধিনিষেধ শিথিলের উদ্যোগ, আসছে নতুন নীতিমালা
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:৪৬, ১ অক্টোবর ২০২৬
কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকদের যাতায়াত ও ভ্রমণসংক্রান্ত বিদ্যমান বিধিনিষেধে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পর্যটকদের সুবিধা, স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা এবং দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য—এই তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। নতুন ব্যবস্থায় পর্যটকদের রাত্রিযাপন ও ভ্রমণের সময়সীমায় পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের নতুন গাইডলাইন চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। দ্বীপের বাসিন্দা, পর্যটন ব্যবসায়ী, পরিবেশবিদ ও জনপ্রতিনিধিদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নতুন নীতিমালায় একদিকে পর্যটনের সুযোগ বজায় রাখার চেষ্টা থাকবে, অন্যদিকে দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর অতিরিক্ত চাপ যাতে না পড়ে, সেটিও নিশ্চিত করার উদ্যোগ থাকবে।
বর্তমান বিধিনিষেধ অনুযায়ী নভেম্বর মাসে পর্যটকদের শুধু দিনের বেলায় সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে নির্দিষ্ট সংখ্যক পর্যটক দ্বীপে রাত্রিযাপন করতে পারেন। বর্তমানে প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটকের রাত্রিযাপনের সুযোগ রয়েছে এবং নির্ধারিত ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
তবে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পর্যটকদের অল্প সময়ের জন্য দ্বীপে গিয়ে আবার ফিরে আসার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাত্রিযাপনের সুযোগ বাড়ানো হলে পর্যটকদের ভ্রমণ আরও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ মনে করছে। একই সঙ্গে স্থানীয় হোটেল, রিসোর্ট, পর্যটন ব্যবসা ও অন্যান্য জীবিকানির্ভর কর্মকাণ্ডেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সেন্টমার্টিনের স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকেও পর্যটন কার্যক্রমের সময়সীমা বাড়ানোর দাবি রয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, আগের তুলনায় পর্যটক কমে যাওয়ায় দ্বীপের পর্যটননির্ভর ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত পর্যটকদের ভ্রমণের সুযোগ রাখার দাবিও জানিয়েছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ।
তবে পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি নিয়েও রয়েছে উদ্বেগ। পরিবেশবিদদের একটি অংশ মনে করছেন, পর্যটকের সংখ্যা ও ভ্রমণের সময়সীমা নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন। অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ কমিয়ে দ্বীপের প্রবাল, সামুদ্রিক প্রাণী, উদ্ভিদ ও অন্যান্য জীববৈচিত্র্য রক্ষা করার বিষয়টি নতুন নীতিমালায় গুরুত্ব পাওয়া উচিত।
পরিবেশ সুরক্ষায় প্লাস্টিক ও একবার ব্যবহারযোগ্য পলিথিনের ব্যবহার নিয়েও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যটকেরা যাতে প্লাস্টিক বা পলিথিন নিয়ে দ্বীপে প্রবেশ করতে না পারেন, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পর্যটনবাহী জাহাজ ছাড়ার আগে এসব সামগ্রী পরীক্ষা করার ব্যবস্থাও রাখা হতে পারে।
এ ছাড়া সৈকতে মোটরচালিত যানবাহন চলাচল, শব্দদূষণ, রাতের বেলায় অতিরিক্ত আলোকসজ্জা, বারবিকিউ পার্টি এবং দ্বীপের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করে এমন কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।
তবে পর্যটকদের জন্য ঠিক কোন মাস থেকে কোন মাস পর্যন্ত ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হবে, প্রতিদিন কতজন পর্যটক যেতে পারবেন এবং রাত্রিযাপনের ক্ষেত্রে কী ধরনের পরিবর্তন আনা হবে—এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত ও পরিবেশগত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে নতুন নীতিমালা প্রকাশের কথা রয়েছে।
এফএইচ/বিএ/পিআর