বাজারে আবার কমেছে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ, দাম বাড়ানোর উদ্যোগ কোম্পানিগুলোর
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৫০, ২ অক্টোবর ২০২৬
বাজারে আবারও কমেছে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ। রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে চাহিদার তুলনায় কম পরিমাণে বোতলজাত তেল পাওয়া যাচ্ছে। একই সময়ে গত এক সপ্তাহে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দামও লিটারে ২ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর পাশাপাশি ডিমের দাম কিছুটা বাড়লেও ব্রয়লার মুরগি ও বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম এখনো তুলনামূলক বেশি রয়েছে।
রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অনেক দোকানে এক, দুই ও পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল চাহিদা অনুযায়ী পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও এক লিটারের বোতল নেই, আবার কোনো দোকানে দুই লিটারের বোতল পাওয়া যাচ্ছে না। বিক্রেতারা বলছেন, তেলের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ না হলেও আগের তুলনায় তা অনেক কমে গেছে।
খুচরা ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, ডিলার ও সরবরাহকারীদের কাছ থেকেও তারা প্রয়োজনের তুলনায় কম পরিমাণে বোতলজাত সয়াবিন তেল পাচ্ছেন। সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে কিছু বিক্রেতা নিয়মিত ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে তেলের বোতল সীমিত পরিমাণে বিক্রি করছেন। কেউ কেউ সরবরাহ পাওয়া তেলের একটি অংশ দোকানের আড়ালে রেখে দিচ্ছেন বলেও জানা গেছে।
ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভোজ্যতেল উৎপাদন ও পরিশোধনকারী কয়েকটি কোম্পানি সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এ কারণে বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে ডিলারদের পক্ষ থেকে খুচরা ব্যবসায়ীদের জানানো হয়েছে। তবে কোম্পানিগুলোর দাম বাড়ানোর প্রস্তাব এখনো চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়নি।
চলতি বছর এর আগেও কয়েক দফা বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছিল। ফেব্রুয়ারির দিকে সরবরাহে সমস্যা শুরু হওয়ার পর এপ্রিলের শেষ দিকে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৪ টাকা বাড়ানো হয়। পরে জুলাইয়ের দিকে আবারও সরবরাহ সংকট তৈরি হয়। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর প্রতি লিটারে আরও ৫ টাকা বাড়িয়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ২০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
এবারও দাম বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে ভোজ্যতেল পরিশোধন ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন। দাম সমন্বয়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। তবে সরকার জানিয়েছে, বাজার পরিস্থিতি যাচাই-বাছাই না করে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।
বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে খোলা ভোজ্যতেলের বাজারেও। গত এক সপ্তাহে খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে লিটারপ্রতি ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকায় উঠেছে। একই সময়ে খোলা পাম তেলের দামও বেড়ে লিটারপ্রতি ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে গত এক সপ্তাহে ডিমের দামও বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি ডজন ডিমের দাম প্রায় ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা। পাড়া-মহল্লার দোকানে এক হালি ডিম কিনতে ৫৫ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব পণ্যের বাড়তি দাম নতুন করে চাপ তৈরি করছে।
ব্রয়লার মুরগির দামও বেশ কিছুদিন ধরে কমেনি। বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি প্রায় ২০০ টাকার আশপাশে বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের মাছের দামও তুলনামূলক বেশি রয়েছে। বাজারে দুই থেকে আড়াই কেজি ওজনের রুই মাছ প্রতি কেজি প্রায় ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা এবং পাঙাশ ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ভোজ্যতেল, ডিম, মুরগি ও মাছের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তি থাকায় সীমিত আয়ের মানুষের ব্যয়ও বাড়ছে। বিশেষ করে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে খোলা তেলের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
এফএইচ/বিএ/পিআর