ভোলার গ্যাসে জ্বালানি সংকট কাটানোর নতুন সম্ভাবনা
admin1
প্রকাশিত: ০৭:৪৩, ৩ অক্টোবর ২০২৬
দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদার মধ্যে ভোলার গ্যাসক্ষেত্রগুলোকে ঘিরে নতুন করে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের এই জেলায় থাকা একাধিক গ্যাসক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য মজুত রয়েছে। এসব গ্যাস দ্রুত ও পরিকল্পিতভাবে উত্তোলন করে জাতীয় গ্যাস ব্যবস্থায় যুক্ত করা গেলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ভোলার শাহবাজপুর, ভোলা নর্থ ও ইলিশা—এই তিনটি গ্যাসক্ষেত্রে সম্মিলিতভাবে প্রায় ২ দশমিক ০৪৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (Tcf) গ্যাসের মজুত রয়েছে। এর মধ্যে আনুমানিক ১ দশমিক ৪৩২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনযোগ্য বলে বিভিন্ন হিসাব থেকে জানা গেছে।
দেশে গ্যাসের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা, সার উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে গ্যাসের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। চাহিদার তুলনায় দেশীয় উৎপাদন কম থাকায় বর্তমানে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজির ওপর নির্ভরতা তৈরি হয়েছে। এতে জ্বালানি আমদানিতে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে ভোলার গ্যাসের সম্ভাবনা কাজে লাগানো গেলে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে। স্থানীয় গ্যাস ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব হলে এলএনজি আমদানির ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস সরবরাহ আরও স্থিতিশীল করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে ভোলার গ্যাসের পুরো সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সঞ্চালন অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা। গ্যাসক্ষেত্রে মজুত থাকার পরও পর্যাপ্ত পাইপলাইন ও জাতীয় গ্যাস গ্রিডের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ না থাকায় সব গ্যাস দ্রুত ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ভোলার গ্যাস জাতীয় অর্থনীতিতে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে নতুন কূপ খনন, অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার এবং প্রয়োজনীয় সঞ্চালন অবকাঠামো দ্রুত নির্মাণ করা জরুরি। একই সঙ্গে গ্যাসের প্রকৃত উত্তোলনযোগ্য মজুত নির্ধারণে নিয়মিত পরীক্ষা ও মূল্যায়নও প্রয়োজন।
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজস্ব প্রাকৃতিক গ্যাসের সর্বোচ্চ ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভোলার গ্যাসের সম্ভাবনাকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতের পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এফএইচ/বিএ/পিআর