চামড়া শিল্পের সম্ভাবনা কাজে লাগানো হয়নি: প্রধান উপদেষ্টা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:২৫, ৩১ জুলাই ২০২৫
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, দেশের চামড়া শিল্প নিয়ে আমরা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেইনি। তাঁর ভাষায়, “এই শিল্প আমাদের অর্থনীতির জন্য লাভজনক হতে পারত, কিন্তু আমরা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারিনি। এটা আমাদের অবমূল্যায়নের ফল।”
বুধবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি সংক্রান্ত উচ্চ পর্যায়ের এক পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচিত ১৬টি সিদ্ধান্তের মধ্যে এনবিআর ৪টি, শিল্প মন্ত্রণালয় ৩টি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ৩টি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ ২টি এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ৪টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান সভায় জানান, ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো বাস্তবায়নে এখন পর্যন্ত ১৯টি সংস্থা যুক্ত হয়েছে, আরও সংস্থা যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি ট্যারিফ পলিসি ২০২৩ বাস্তবায়ন নিয়েও অগ্রগতি জানানো হয়।
সভায় তৈরি পোশাক খাতের বাইরে অন্য রপ্তানি খাতকে কীভাবে সহযোগিতা দেওয়া যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে ম্যান-মেইড ফাইবার ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধার প্রস্তাব সামনে আনা হয়।
এছাড়াও আলোচনায় উঠে আসে:
• সাভারের টানারি ভিলেজে ইটিপি (Effluent Treatment Plant) সম্পূর্ণরূপে চালু করা
• মুন্সিগঞ্জে এপিআই পার্কের অগ্রগতি
• ২০২২ সালের শিল্প নীতির হালনাগাদ সংক্রান্ত পদক্ষেপ
প্রধান উপদেষ্টা চামড়া শিল্পে চলমান সংকট নিয়ে বিশেষ বৈঠক আয়োজনের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি, এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য আগামী দুই মাসের মধ্যে পরবর্তী বৈঠক আহ্বানের কথাও বলেন।
তিনি বলেন, “নিজেদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। যেসব নীতি বা আইন বাস্তবতায় কাজ করছে না, সেগুলো নতুন করে ভাবতে হবে। পরিবর্তনের সাহস নিতে হবে।”
সভায় অর্থ, শিল্প, পরিবেশ, নৌপরিবহন, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
এফএইচ/বিএ/পিআর