ঋণ দাও ও নাও’র যুগ শেষ, ব্যাংক খাতে আসছে সুশাসনের নতুন অধ্যায়: গভর্নর আহসান এইচ মনসুর
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৪২, ১ অগাস্ট ২০২৫
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, “গত সরকারের সময় নীতি ছিল—যত পারো ঋণ দাও, আর যত পারো ঋণ নাও। এখন সে ধারা নেই। আমাদের মূল লক্ষ্য এখন ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা।”
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই ২০২৫), বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। এতে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধ অর্থাৎ জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের জন্য নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়।
গভর্নর জানান, ব্যাংক কোম্পানি আইনে বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এর ফলে পরিবারতন্ত্র এবং পরিচালকদের প্রভাব কমিয়ে ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, “আশা করছি, আগামী তিন-চার বছরের মধ্যে দেশের ব্যাংক খাত ঘুরে দাঁড়াবে। দুর্বল ব্যাংকগুলোকে মার্জ (একীভূত) করলেও আমানতকারীদের অর্থ পুরোপুরি নিরাপদ থাকবে। তাদের সম্পূর্ণ টাকা ফেরত পাওয়া যাবে।”
আহসান এইচ মনসুর জানান, এবার ব্যাংক খাতে “বড় সার্জারি” হবে। সরকারের পক্ষ থেকে বড় অঙ্কের তহবিল সরবরাহ করা হবে, যেটা মুনাফাসহ ফেরত নেওয়া যাবে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “সরকার ব্যাংক কেনার জন্য হস্তক্ষেপ করছে না; বরং জনগণের অর্থ ও স্বার্থ সুরক্ষার জন্যই এই পদক্ষেপ নিচ্ছে। এই ব্যাংকগুলোকে এক বছরের সময় দেওয়া হয়েছিল নিজেদের উন্নয়নের জন্য। কিন্তু তারা সফল হয়নি। তাই এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে।”
গভর্নর আরও বলেন, “গত বছরের এই সময় কেউ চাইলে আমদানি করতে পারত না। এখন পরিস্থিতি বদলেছে। বর্তমানে যে কেউ চাইলে পণ্য আমদানি করতে পারছে। আমদানিতে আর কোনো বাধা নেই।”
তিনি জানান, কাঁচামাল আমদানির পরিমাণ বেড়েছে। এমনকি যদি আগামী এক-দুই বছর গার্মেন্টস খাতে নতুন বিনিয়োগ না-ও হয়, তবুও রপ্তানি কমবে না। কারণ এসব কারখানা এখনো তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছায়নি।
“বিনিয়োগ বাড়ানো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরাসরি কাজ নয়,” বলেন তিনি। “তবে ঋণগ্রহণের উপযোগী তহবিল যদি বাড়ে, বিনিয়োগও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়বে।”
বাংলাদেশের ব্যালান্স অব পেমেন্টে উদ্বৃত্তের কথা উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, “ব্যাংক খাত থেকে ডলার কেনার কারণে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বাজারে ঢুকেছে। এতে শেয়ারবাজারও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।”
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটি একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তির কারণে ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠবে। গোটা বিশ্বই এখন এই সমস্যা নিয়ে ভাবছে।
কিন্তু বাংলাদেশে মানসম্মত দক্ষ জনবল তৈরি হচ্ছে না। একই সঙ্গে একটা অস্থিরতা কাজ করছে। অনেকে দীর্ঘদিন একই চাকরিতে স্থায়ী থাকতে পারছে না, যা উদ্বেগের বিষয়।
এফএইচ/বিএ/পিআর