ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে দিয়েছিল ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা দেওয়ার অনুরোধ, কিন্তু রিয়াদ অস্বীকৃতি জানিয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৫০, ১ অগাস্ট ২০২৫
গত জুনে ইরান-ইসরায়েল
সংঘাত চলাকালে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে উপর্যুপরি আঘাত
হানায় ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর ব্যাপক চাপ
পড়েছিল। বিশেষত, দেশটির টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া
ডিফেন্স বা থাড সিস্টেম
বড় ভূমিকা পালন করলেও, মজুতের
সংকট দেখা দেয়।
যুক্তরাষ্ট্র
ওই সংকট মোকাবেলায় সৌদি
আরবের কাছে ইসরায়েলকে কিছু
আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দিতে অনুরোধ করেছিল।
তবে সৌদি আরব এই
অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে বলে মিডল ইস্ট
আইকে দুজন মার্কিন কর্মকর্তা
নিশ্চিত করেছেন।
এক কর্মকর্তা বলেন, "যুদ্ধ চলাকালে আমরা মধ্যপ্রাচ্যের যেসব
দেশগুলোর কাছে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা
ছিল, তাদের সবাইকে ইসরায়েলকে সহায়তা করার জন্য অনুরোধ
করেছিলাম। কেউ রাজি হয়নি,
তখন আমরা চুক্তির প্রস্তাব
দিয়েছিলাম। তবে বিশেষ করে
কোনো এক দেশকে আলাদা
করে বলা হয়নি।"
যুক্তরাষ্ট্রের
কর্মকর্তারা বলছেন, ইরান শুধু ইসরায়েলের
জন্য নয়, সৌদি আরবের
জন্যও বড় হুমকি। তাই
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও তারা
সহযোগিতায় রাজি হয়নি।
ইরানের
ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে ইসরায়েলকে রক্ষা
করতে যুক্তরাষ্ট্র এসএম-৩ মিসাইল
ব্যবহার করেছে, যা ইসরায়েলের গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার আরলি বার্ক ক্লাস
যুদ্ধজাহাজ থেকে ছোড়া হয়েছিল।
ইসরায়েলের
তিন স্তরের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও,
ইরানের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলি শহরগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। যুক্তরাজ্যের দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন
অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের পাঁচটি সামরিক স্থাপনায় সরাসরি আঘাত করেছিল।
বিশ্লেষকরা
বলছেন, ইরানের এমন ব্যাপক হামলার
বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকাশ
প্রতিরক্ষাব্যবস্থা প্রত্যাশার চেয়ে ভালো করেছে,
তবে দীর্ঘ সংঘাতের কারণে সেসব ব্যবস্থার মজুত
দ্রুত কমে গেছে।
মিচেল
ইনস্টিটিউট ফর অ্যারোস্পেস স্টাডিজের
নির্বাহী পরিচালক ডগলাস বারকি জানিয়েছেন, "যুদ্ধের একটি পর্যায়ে প্রতিরক্ষাব্যবস্থার
মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। আমাদের কাছে নতুন করে
সেগুলো তৈরির সক্ষমতা সীমিত।"
গত শুক্রবার দ্য ওয়াল স্ট্রিট
জার্নাল জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ঘাটতির কারণে
যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের কাছ
থেকে কেনা থাড সিস্টেম
ইসরায়েলে পাঠানোর বিষয়েও আলোচনা করেছিল, কিন্তু সৌদি আরব তা
মেনে নেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র
সংযুক্ত আরব আমিরাতকেও ইসরায়েলকে
আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দিতে অনুরোধ করেছিল,
তবে আমিরাত থেকে ইসরায়েল কোনো
প্রতিরক্ষা পাওয়া গেছে কিনা তা
স্পষ্ট নয়।
ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের সময় সৌদি আরব
তাদের নিজস্ব থাড সিস্টেমের প্রথম
ব্যাটারি চালু করার প্রস্তুতি
নিচ্ছিল, যা ৩ জুলাই
আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রমে আসে। এটি সৌদি
আরবের নিজের তহবিল থেকে কেনা হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা
বলছেন, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ভেদ
করে হামলা চালানোর সক্ষমতা উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোকে উদ্বিগ্ন করেছে, কারণ সেখানে তুলনামূলক
কম সুরক্ষা রয়েছে।
মিডল
ইস্ট আই প্রথম জানায়,
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যালিস্টিক
ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার মজুত দ্রুত শেষ
হয়ে আসছে। পরবর্তী সময়ে ওয়াল স্ট্রিট
জার্নাল ও দ্য গার্ডিয়ান
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গার্ডিয়ানের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাত্র ২৫ শতাংশই অবশিষ্ট ছিল, যা বিশ্বব্যাপী সামরিক অপারেশনের জন্য প্রয়োজনীয় মজুতের তুলনায় খুবই কম।
এফএইচ/বিএ/পিআর