৮ শতাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্ব ছাড়া জাতীয় ঐক্য প্রশ্নবিদ্ধ: সংখ্যালঘু অধিকার আন্দোলন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৪০, ১ অগাস্ট ২০২৫
দেশের জাতীয় ঐকমত্য গঠনের উদ্যোগে সংখ্যালঘুদের কোনো অংশগ্রহণ না থাকায় উদ্বেগ জানিয়েছে সংখ্যালঘু অধিকার আন্দোলন। তাদের ভাষ্য, দেশের ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায় দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮ শতাংশ হলেও, কোনো কমিশন বা জাতীয় উদ্যোগে তাদের কাউকে প্রতিনিধিত্ব করতে দেখা যাচ্ছে না।
শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক তরুণ রায় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। সেখানে বলা হয়, সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো এখনও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে শুধুই একটি ভোট ব্যাংক হিসেবে বিবেচনা করে, বাস্তব জীবনে তাদের অধিকার রক্ষায় কোনো দৃশ্যমান চেষ্টা করা হয় না।
তরুণ রায় বলেন, “গণ-আন্দোলনের আগেও যেমন অবহেলা ছিল, আন্দোলনের পরেও সেই চিত্র বদলায়নি। বরং বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের ৯ আগস্ট থেকে আমরা আন্দোলনে সক্রিয় হয়েছি এবং ৮ দফা দাবি উত্থাপন করেছি। সেই দাবিগুলোর মধ্যে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠন অন্যতম। তবে সরকার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যতে যদি এসব দাবি গুরুত্ব না পায়, তাহলে আমরা ভোট বর্জনের চিন্তাও করতে পারি। কারণ ৮ শতাংশ মানুষের কণ্ঠ অবজ্ঞা করে কোনো জাতীয় ঐক্য হতে পারে না।”
সংগঠনের আহ্বায়ক সুস্মিতা কর বলেন, “ঐকমত্য কমিশনে সংখ্যালঘুদের কোনো জায়গা নেই—এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। সংখ্যালঘুরা বারবার প্রমাণ করেছে, তারা দেশপ্রেমিক ও শান্তিপ্রিয়। কিন্তু তাদের দাবিগুলো বারবার উপেক্ষিত হচ্ছে। যদি রাজনৈতিক দল ও সরকার এগিয়ে না আসে, তাহলে ভোট বর্জনের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হব আমরা।”
সংবাদ সম্মেলনের সঞ্চালনা করেন সংগঠনের প্রচার সম্পাদক সুব্রত বল্লভ। উপস্থিত ছিলেন আদিবাসী সংগঠক সুমন ত্রিপুরাও।
ঘোষণা অনুযায়ী, সংখ্যালঘুদের ৮ দফা দাবি তুলে ধরার লক্ষ্যে আগামী ২২ আগস্ট ‘জাতীয় সংখ্যালঘু সম্মেলন ২০২৫’ আয়োজন করবে সংখ্যালঘু অধিকার আন্দোলন।
এফএইচ/বিএ/পিআর