৪৪তম বিসিএসের রিপিট ক্যাডার নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত আসছে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৫৬, ১ অগাস্ট ২০২৫
৪৪তম
বিসিএস পরীক্ষায় ‘রিপিট ক্যাডার’ ইস্যুতে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে
যাচ্ছে সরকার। যারা আগের বিসিএসে
(বিশেষ করে ৪৩তম বিসিএসে)
কোনো নির্দিষ্ট ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে ৪৪তম বিসিএসেও
একই ক্যাডারে মনোনীত হয়েছেন, তাঁদের বিষয়ে সরকার এখন নীতিগত পদক্ষেপ
নিচ্ছে।
জনপ্রশাসন
মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা
আজ বৃহস্পতিবার জানান, পিএসসি এই ইস্যুতে কিছু
সুপারিশ পাঠিয়েছে। এগুলো পর্যালোচনা করে একটি স্থায়ী
সমাধানের দিকে এগোচ্ছে সরকার।
এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পিএসসিকে মতামত
দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মতামত পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা
করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
পিএসসির
এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ‘রিপিট ক্যাডার’ হিসেবে পরিচিত প্রার্থীর প্রকৃত সংখ্যা ৩৭২। তাঁদের তালিকা
ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করেছে কমিশন। এই প্রার্থীদের একটি
গুগল ফর্মের মাধ্যমে জানতে চাওয়া হয়েছে—তাঁরা ৪৪তম বিসিএসে নতুন
করে পাওয়া ক্যাডারে থাকতে চান, না কি
আগেরটিতেই ফিরতে চান। প্রার্থীদের মতামতের
ভিত্তিতে খালি পদ নির্ধারণ
করে অপেক্ষমাণ বা উচ্চতর মেধাক্রমে
থাকা প্রার্থীদের মধ্যে পদ পুনর্বিন্যাস করার
উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি
আরও বলেন, এই পদবিন্যাসে যেন
কারও অধিকার ক্ষুন্ন না হয়, সে
বিষয়টি বিশেষভাবে খেয়াল রাখা হচ্ছে। এ
কারণে কাউকে সরাসরি ‘বাদ দেওয়ার’ কোনো
প্রক্রিয়া নয়, বরং স্বেচ্ছায়
মতামতের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
৪৪তম
বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হয়
গত ৩০ জুন। এতে
১ হাজার ৬৯০ জন প্রার্থীকে
বিভিন্ন ক্যাডারে সাময়িকভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে
পিএসসি। ফল বিশ্লেষণে দেখা
যায়, এর মধ্যে প্রায়
৪০০ জন প্রার্থী পূর্ববর্তী
বিসিএসেও একই ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত
ছিলেন, যাঁরা এবার আবারও একই
পদে পুনরায় মনোনীত হয়েছেন—তাঁদেরই বলা হচ্ছে ‘রিপিট
ক্যাডার’।
এই
‘রিপিট ক্যাডার’ প্রবণতা বন্ধ করতে বাংলাদেশ
সিভিল সার্ভিস (বয়স, যোগ্যতা ও সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষা) বিধিমালা, ২০১৪–এর বিধি ১৭-এর শেষে একটি
নতুন শর্ত যুক্ত করার
প্রস্তাব দিয়েছে পিএসসি। এর লক্ষ্য হলো—একই প্রার্থী যাতে
বারবার এক ক্যাডারে জায়গা
না পান এবং অপেক্ষমাণ
মেধাবীদের সুযোগ নিশ্চিত করা যায়।
এখন এই প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
এফএইচ/বিএ/পিআর