বাকৃবিতে ৬ হাজার শিক্ষার্থীর যাতায়াতে মাত্র ৫ বাস, দুর্ভোগ চরমে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৩১, ১ অগাস্ট ২০২৫
বাংলাদেশ কৃষি
বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও পরিবহন সুবিধা বাড়েনি। প্রায় ছয়
হাজার শিক্ষার্থীর যাতায়াতের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বহরে আছে মাত্র পাঁচটি বাস। ফলে
প্রতিদিন ক্লাসে যাওয়া-আসায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
শিক্ষার্থীরা
জানান, বাসে তারা ছাড়াও বহিরাগত যাত্রী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের স্বজনরাও ওঠেন।
এতে সিট পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, অনেককে দাঁড়িয়ে কিংবা বিকল্প পরিবহন ব্যবহার করে বাড়তি
খরচে যাতায়াত করতে হয়।
তারা অভিযোগ
করেন, পরিবহন কার্ড বাবদ প্রতি সেমিস্টারে জনপ্রতি ১৫০ টাকা করে নেওয়া হলেও এখনো পর্যন্ত
কোনো শিক্ষার্থী সেই কার্ড পাননি। ফলে বহিরাগতরা অনায়াসে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে যাতায়াত
করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের
পরিবহন শাখা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে পাঁচটি বাসের মধ্যে চারটি ময়মনসিংহ শহর-ক্যাম্পাস
রুটে ও একটি ফার্ম এলাকায় চলাচল করে। শহর রুটে প্রতিদিন ১১টি ট্রিপ চালু থাকলেও শনিবার
রয়েছে মাত্র একটি ট্রিপ এবং ছুটির দিনগুলোতে থাকে সাতটি ট্রিপ। ফার্ম রুটে ক্লাস চলাকালে
চলে মাত্র একটি ট্রিপ। অন্যদিকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রয়েছে চারটি মিনিবাস, পাঁচটি
অচল বাস ও চারটি অ্যাম্বুলেন্স। তবে শুক্রবার কোনো বাস চালু থাকে না।
স্নাতকোত্তর
শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মঈন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর তুলনায় বাসের সংখ্যা
খুবই কম। কর্মচারী ও বহিরাগতরা সিট দখল করে রাখায় বাসে ওঠাই কঠিন হয়ে যায়। বিকেলে ক্লাস
ছুটির পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।”
তিনি বাস সংখ্যা
বাড়ানো, পিক আওয়ারে অতিরিক্ত ট্রিপ চালু, বাসে মনিটরিং ব্যবস্থা চালু ও অভিযোগ জানানোর
জন্য হেল্প ডেস্ক চালুর দাবি জানান।
আরেক শিক্ষার্থী
জায়েদ হাসান ওয়ালিদ বলেন, “করোনার আগে যেখানে ২২টি ট্রিপ ছিল, এখন তা কমে ১২টিতে
নেমে এসেছে। শুক্রবার কোনো বাস নেই, শনিবার মাত্র একটি ট্রিপ—এটা শিক্ষার্থীদের জন্য
অপ্রতুল। বারবার বললেও প্রশাসন গুরুত্ব দেয়নি।”
বিষয়টি স্বীকার
করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন শাখার পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গুলজারুল আজিজ বলেন,
“শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ সম্পর্কে আমরা জানি। একটি নতুন বাস কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে
এবং তা শিগগির সংগ্রহ করা হবে বলে আশা করছি।”
তিনি আরও জানান,
“চালকের সংকটের কারণে বিকল্প জনবল দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে। এ সংকট কাটাতে প্রয়োজনীয়
উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
শিক্ষার্থীরা দ্রুত কার্যকর সমাধান চেয়ে বলেন, নতুন বাস সংযোজনের পাশাপাশি বাসে মনিটরিং, পিক আওয়ারে অতিরিক্ত ট্রিপ ও অভিযোগ জানানোর ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করলেই পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।
এফএইচ/বিএ/পিআর