ঢাকা, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

/ অন্যান্য / শিক্ষা

ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপনের প্রতিবাদে ঢাবিতে বিক্ষোভ

Admin

প্রকাশিত: ১০:২৩, ২৩ জুলাই ২০২৫

ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপনের প্রতিবাদে ঢাবিতে বিক্ষোভ

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনের (ওএইচসিএইচআর) একটি কার্যালয় ঢাকায় স্থাপনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আজ রোববার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির রাজু ভাস্কর্যে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।

'বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীবৃন্দ' ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা এ সিদ্ধান্তকে ‘দেশের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ’, ‘মূল্যবোধ ও সমাজব্যবস্থার ওপর আঘাত’ এবং ‘আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের মর্যাদা ক্ষুণ্নের অপচেষ্টা’ হিসেবে আখ্যা দেন। চারটি মূল কারণ দেখিয়ে প্রতিবাদ- বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা চারটি প্রধান যুক্তিতে ওএইচসিএইচআর কার্যালয়ের বিরোধিতা করেন-

১. সার্বভৌমত্বের উপর হস্তক্ষেপ- বক্তারা অভিযোগ করেন, মানবাধিকার অফিস স্থাপিত হলে জাতিসংঘ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের সুযোগ পাবে। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যুতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়বে এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর উৎসাহ বৃদ্ধি পাবে। ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।

২. মূল্যবোধগত সমস্যা- শিক্ষার্থীদের মতে, জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর সমকামিতা, ট্রান্সজেন্ডার অধিকার এবং পতিতাবৃত্তির বৈধতা দেওয়ার মতো ইস্যুতে কাজ করে থাকে, যা বাংলাদেশের ধর্মীয় বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও প্রচলিত আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বক্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এই কার্যালয় সরকারকে শিক্ষা পাঠ্যক্রমে এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে চাপ দেবে।

৩. আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমর্যাদার ক্ষুণ্ন- বক্তারা বলেন, সাধারণত যুদ্ধবিধ্বস্ত বা চরম অস্থিতিশীল রাষ্ট্রগুলোতেই জাতিসংঘ মানবাধিকার অফিস স্থাপন করে। বাংলাদেশে এ ধরনের কোনো পরিস্থিতি না থাকা সত্ত্বেও এমন অফিস স্থাপন দেশকে নীচু মানের রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে।

৪. মৃত্যুদণ্ডে হস্তক্ষেপ- ধর্ষণ বা হত্যার মতো গুরুতর অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার প্রচলিত আইনকে বাতিল বা শিথিল করার জন্য জাতিসংঘের পক্ষ থেকে চাপ আসবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন আন্দোলনকারীরা। বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার দেখা যায়। যাতে লেখা ছিল- "Libya Fell, Palestine brunt too- tell us UN what did you do?", "The UN Colonizer with Better Branding", "সাম্রাজ্যবাদের ঠিকানা বাংলাদেশে হবে না", "মানবাধিকারের ছলে কী চক্রান্ত চলে?"

এ সময় শিক্ষার্থীরা “কমিশন না সার্বভৌমত্ব? সার্বভৌমত্ব সার্বভৌমত্ব; গাজায় যখন মানুষ মরে, মানবাধিকার কী করে?; মানবাধিকার কমিশন, মানি না মানবো না; শ্রীলঙ্কা যখন মানেনি, বাংলাদেশও মানবে না” সহ নানা স্লোগান দেন। বিক্ষোভে অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম অপু বলেন, “জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস যে উদ্দেশ্যে চালু হচ্ছে, তার পেছনে এক ধরনের আধিপত্য বিস্তারের রাজনীতি কাজ করছে। আমাদের শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ অমূলক নয়।”

তিনি বলেন, বাংলাদেশে জাতিসংঘের অফিস করে এদেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আধৌ কোনো প্রয়োজন নেই। এদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস স্থাপন আপামর জনতার প্রত্যাশার সাথে সাংঘর্ষিক, ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক এবং জুলাই অভ্যুত্থানের গণ আকাঙ্ক্ষার সাথে সাংঘর্ষিক। তিনি বলেন, এদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের অফিস স্থাপন করে বাংলাদেশকে একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের তালিকাভুক্ত করার অপচেষ্টা এদেশের মানুষ মেনে নিবে না।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী মুহিউদ্দিন রাহাত বলেন, “আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি- অবিলম্বে এই অফিস স্থাপনের চুক্তি বাতিল করা হোক। অন্যথায় আমরা শিক্ষার্থীরা দেশব্যাপী আন্দোলনে নামব।” আরেক শিক্ষার্থী জামালুদ্দীন মুহাম্মাদ খালিদ বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের যদি এতোটাই কার্যকর হয় তাহলে বিশ্বের মাত্র ১৬ টি দেশে কেনো তাদের কার্যক্রম রয়েছে? আমরা কি কোনো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ নাকি যে আমাদের জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের কার্যালয় লাগবে? আবিদ হাসান নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমার যে জুলাই অভ্যুত্থান করেছিলাম তার মূল মোটিভেশন ছিল হাসিনার স্বৈরাচার শাসন।

হাসিন তার বিভিন্ন সংস্থা, এজেন্সির মাধ্যমে শাসন করেছিল । আন্তর্জাতিক আধিপত্যবাদী শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো আধিপত্য কায়েম করার জন্য বিভিন্ন দেশে তাদের সংস্থা স্থাপন করছে। তিনি বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা স্থাপন করার মাধ্যমে তারাও এই আধিপত্য কায়েম করতে চাচ্ছে। তাই আমার অন্তবর্তীকালীন সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি এই চুক্তি বাতিল করার জন্য। সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের কর্মকাণ্ড দেশের নানান সেক্টরে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করবে।

এজন্য আমরা এর প্রতিবাদে মাঠে নেমেছি। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, সরকার যেন অতি দ্রুত জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপনের সমঝোতা চুক্তি বাতিল করে। উল্লেখ্য, গত ২৯ জুন জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশন (OHCHR) ও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার একটি তিন বছরের সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করে, যার আওতায় ঢাকায় একটি কার্যালয় খোলা হবে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই অফিসের মূল উদ্দেশ্য হবে- * মানবাধিকার সংক্রান্ত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা পূরণে সহায়তা, * সরকারি প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজকে কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া, * অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

এফএইচ/বিএ/পিআর

Ad Image

সর্বোচ্চ পঠিত - শিক্ষা

Ad Image

আপনার জন্য নির্বাচিত

Ad Image